মায়ের শেষ চিৎকার
গ্রামের এক কোণে একটি ছোট্ট খোঁয়ারে বাঁধা ছিল একটি ছাগল, মায়া। তার চোখ দুটি ছিল বিশাল এবং উজ্জ্বল, যেন তার মধ্যে সমস্ত বিশ্বের গল্প লুকিয়ে আছে। মায়ার একটি ছোট্ট বাচ্চা ছিল, তার নাম ছোটু। ছোটু ছিল মায়ার জীবনের একমাত্র আনন্দ। মায়া ছোটুকে নিয়ে ঘাস খেত, তাকে চাটত এবং তার সাথে খেলত। ছোটুও মায়াকে খুব ভালোবাসত, তার মায়ের কাছ থেকে কখনও দূরে যেত না।
অন্ধকারের শুরু
একদিন সকালে, গ্রামের কসাই, করিম, এল মায়ার খোঁয়ারে। তার হাতে ছিল একটি ধারালো ছুরি। মায়ার হৃদয় দ্রুত স্পন্দিত হতে লাগল। সে বুঝতে পারল কী হতে চলেছে। সে ছোটুর সামনে দাঁড়িয়ে তার শরীর দিয়ে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করল, কিন্তু করিম তাকে পাশে ঠেলে দিল। ছোটু ভয়ে চিৎকার করতে লাগল, কিন্তু করিমের কাছে তার কান্নার কোনো মূল্য ছিল না।
ছোটুকে ধরে নিয়ে যাওয়া হল কসাইখানায়। মায়া তার বাচ্চার পিছনে ছুটতে চাইল, কিন্তু তার পা বাঁধা ছিল। সে চিৎকার করতে লাগল, কিন্তু তার কান্না কেউ শুনল না। ছোটুকে নিয়ে যাওয়া হল কসাইখানায়, যেখানে তাকে কাটা হবে। মায়া সারাদিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল, তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
মায়ের শেষ চিৎকার
পরের দিন, করিম মায়াকে দুধ দোয়ানোর জন্য নিয়ে এল। কিন্তু মায়া এবার প্রতিবাদ করল। সে দুধ দিতে অস্বীকার করল, তার চোখে ছিল রাগ এবং দুঃখ। করিম তাকে মারতে শুরু করল, কিন্তু মায়া নড়ল না। সে বুঝতে পেরেছিল যে তার জীবনটাই শুধু দুধের জন্য নয়, তারও অনুভূতি আছে, তারও ভালোবাসা আছে।
কিছুদিন পর, মায়া আর দুধ দিত না। করিম তাকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিল। মায়াকে নিয়ে যাওয়া হল বাজারে, যেখানে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হল। মায়ার নতুন মালিক তাকে ভালোবাসত না, শুধু তার দুধের জন্য তাকে ব্যবহার করত। মায়া সারাদিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকত, তার চোখে ছিল ছোটুর স্মৃতি।
মায়ার মুক্তি
একদিন, মায়া তার বাঁধন ছিঁড়ে পালিয়ে গেল। সে দৌড়ে গেল গ্রামের বাইরে, যেখানে সে মুক্ত ছিল। সে খোলা মাঠে ঘাস খেত, নদীর পাশে শুয়ে থাকত। তার চোখে আবারও আলো ফিরে এল। মায়া বুঝতে পেরেছিল যে তার জীবনটাই শুধু দুধের জন্য নয়, তারও স্বাধীনতা আছে, তারও ভালোবাসা আছে।
গল্পের শিক্ষা
এই গল্প শুধু মায়ার নয়, এটি লক্ষ লক্ষ প্রাণীর গল্প যারা প্রতিদিন মানুষের হাতে কষ্ট পায়। আমরা তাদের শুধু আমাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ব্যবহার করি, তাদের অনুভূতির কথা ভুলে যাই। কিন্তু প্রাণীদেরও জীবন আছে, তাদেরও ভালোবাসা আছে, তাদেরও স্বাধীনতা প্রাপ্য।
Comments
Post a Comment